fiverr কি? ফাইবার একাউন্ট তৈরি করার নিয়ম | fiverr সম্পর্কে বিস্তারিত
fiverr কি? ফাইভার হচ্ছে একটি জনপ্রিয় অনলাইন ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটপ্লেস। আজকে আমি ফাইবার মার্কেটপ্লেস, fiverr সম্পর্কে বিস্তারিত এবং ফাইবার একাউন্ট তৈরি করার নিয়ম (how to creat fiverr account bangla) নিয়ে আলোচনা করব।
fiverr কি?
ফাইবার হচ্ছে এমন একটি মার্কেটপ্লেস যেখানে আপনার যেকোনো স্কিল কে আপনি সার্ভিস হিসেবে সেল করতে পারবেন। এ ধরনের আরো মার্কেটপ্লেস আছে যেমন ধরেন আপওয়ার্ক এবং ফ্রিল্যান্সার ডট কম। ফ্রিল্যান্সার এবং Upwork এগুলোও খুব জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস। কিন্তু এগুলো মার্কেটপ্লেস এর মধ্যে এবং fiverr মার্কেটপ্লেস এর মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। যার জন্য fiverr খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে গেছে এবং বর্তমানে ওয়ার্ল্ড এর ওয়ান অফ দা টপ মার্কেটপ্লেস।
একটা সময় ছিল ফাইবারে শুধু মাত্র 5 ডলার এর কাজ পাওয়া যেত বা 5 ডলারে কাজ করা যেত এর বেশি যেত না। বাট এখন আপনি শত শত হাজার হাজার ডলারের কাজ ফাইবার মার্কেটপ্লেস এ করতে পারবেন বা সেলাররা করতে পারে। যার জন্য প্রচুর freelancer থেকে শুরু করে প্রচুর client ফাইভার মারকেটপ্লেসকে (fiverr.com) পছন্দ করে হাই কোয়ালিটি সার্ভিস এর জন্য বা সার্ভিস সেল করার জন্য।
ফ্রিল্যান্সার এবং বায়ার এর মধ্যে যে জিনিসটা আমার খুব ভালো লাগে সেটা আমি আপনাকে বলি ফ্রিল্যান্সার এবং আপওয়ার্ক মার্কেটপ্লেসগুলোও অনেক জনপ্রিয় এবং অনেক অনেক কাজ রয়েছে এ মার্কেটপ্লেসগুলোতে।
কিন্তু একটা জিনিস আপনারা লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন। এ ফ্রীলান্স মার্কেটপ্লেসে আমরা যদি যাই ব্রাউজ প্রজেক্ট এ যে কোন একটা বিষয় লিখে সার্চ করি। এবং ওয়ার্ডপ্রেস ডেভেলপমেন্ট লিখে সার্চ করি। তাহলে এখানে দেখা যায় একেক কোম্পানি একেক রকম রিকোয়ারমেন্ট দিয়ে রাখছে। অর্থাৎ এখানে অনেক পোস্ট আছে বিভিন্ন কোম্পানি এখানে জব পোস্ট করতেছে বিভিন্ন প্রজেক্ট পোস্ট করতেছে একেক প্রজেক্টের ডিটেলস একেক রকম।
একজন ফ্রীল্যান্সার হিসেবে বা একজন সেলার হিসেবে আপনি আপনার সার্ভিস সেল করবেন এই মার্কেটপ্লেসে। তো একটা মানুষের পক্ষে সব কাজ শেখা সম্ভব না আপনার পক্ষে হোক বা আমার পক্ষে হোক কারো পক্ষে এটা পসিবল না। এই জন্য অন্য মার্কেটপ্লেসগুলোতে একটা প্রবলেম থেকে যায়।
একেকটা কোম্পানির প্রজেক্টর ডিটেইলস একেকরকম। হয়তো আপনি একটা পারবেন একটা পারবেন না, আবার দুইটা পারবেন বাকি দুইটা পারবেন না। কিন্তু fiverr এমন একটা মার্কেটপ্লেস এখানে আপনি যতটুকু পারেন ততটুকু কে আপনি সার্ভিস হিসেবে সেল করতে পারবেন। এখানে বায়াররা জব পোস্ট করবে না এখানে আপনি একজন সার্ভিস সেলার হিসেবে আপনি যাহা পারেন সেটাই আপনি এখানে সার্ভিস হিসেবে পাবলিশ করবেন। যে বায়ারদেরে এই সার্ভিসটা প্রয়োজন তারা আপনার সার্ভিসটি অর্ডার করবে।
আবার ভালো করে লক্ষ্য করুন, এখানে প্রত্যেকটা প্রজেক্ট আপনাকে ভালো করে দেখতে হচ্ছে ভালো করে বুঝতে হচ্ছে। একেকটা প্রজেক্টে একেক রকম রিকোয়ারমেন্ট। দেখা গেছে একটা প্রজেক্টে পাঁচটা রিকোয়ারমেন্ট দেওয়া হয়েছে আপনি তিনটা পারেন দুইটা পারেন না। আরেকটা প্রজেক্টে তিনটা রিকোয়ারমেন্ট দেওয়া হয়েছে আপনি দুইটা পারেন একটা পারেন না, বিশেষ করে শুরুর দিকে।
একটা সময় শিখতে শিখতে আপনি অনেক কিছু শিখে যাবেন। তখনই মার্কেটপ্লেস থেকে ভালো ভালো আর্নিং করতে পারবেন। কিন্তু শুরুর দিকে দেখা যায় এ প্রবলেম গুলো হয়, আর এত এত সার্ভিস দেখে অনেক সময় হতাশা চলে আসতে পারে। নতুনরা তখন ফিলেন্সিং করতে ভয় পায় আর মার্কেটপ্লেস থেকে চলে আসে বলে যে আমার দ্বারা ফ্রীলান্সিং হবে না।
আর এখানেই fiverr একটি প্রবলেম সলভ করে দিয়েছে। অর্থাৎ এখানে আপনার পাঁচটা দশটা বা বিশটা স্কিল জানার প্রয়োজন নেই। আপনি যতটুকু জানেন ততটুকু কে আপনি এখানে সার্ভিস হিসেবে সেল করতে পারবেন। এখানে একেকটা সার্ভিস কে বলা হয় গিগ।
আমি একবারও বলছি না ফ্রিল্যান্সার ডট কম মার্কেটপ্লেস খারাপ ফাইবার মার্কেটপ্লেস ভালো বা ফাইবার ভালো ফ্রিল্যান্সার খারাপ। প্রত্যেকটি মার্কেটপ্লেসে খুবই জনপ্রিয় এবং প্রত্যেকটি মার্কেটপ্লেসে কোটি কোটি ডলারের কাজ আছে।
কিন্তু fiverr মার্কেটপ্লেস এর পার্থক্যটা হচ্ছে আপনাকে একসাথে অনেক কিছু শিখতে হচ্ছে না। প্রথম অবস্থায় আপনি আর্টিকেল রাইটিং শিখে গেছেন বা ফটোশপ শিখে গেছেন এটাকে সার্ভিস হিসেবে সেল করতে পারবেন। আপনি যেকোন সফটওয়্যার এর ব্যবহার ভালোভাবে শিখে গেছেন সেটা আপনি সার্ভিস হিসেবে সেল করতে পারবেন।
অর্থাৎ আপনি যতটুকু জানেন ততটুকুই এখানে সেল করতে পারবেন। আপনাকে ক্লাইন্ট মেন্টেন করতে হচ্ছে না। আপনার স্বাধীনতা আছে এখানে যতটা, অন্য মার্কেটপ্লেস গুলোতে এতটা স্বাধীনতা থাকে না। কিন্তু আপনি যখন এক্সপার্ট হয়ে যাবেন অনেক কাজ শিখে যাবেন, অনেক বেশি অভিজ্ঞতা হয়ে যাবে তখন অন্য মার্কেটপ্লেসগুলোতে কাজ করতে পারেন। অনেক দামি দামি কাজ করতে পারেন এবং অনেক পার্মানেন্ট ক্লাইন্ট পেতে পারেন। ফাইবারেও অনেক পার্মানেন্ট ক্লাইন্ট পাওয়া যায়। আপনি কাজ করতে করতে অনেক ভালো একটা রিলেশন হয়ে গেলে ক্লায়েন্ট বারবার আপনাকে অর্ডার করবে।
তো আমি আবারও বলছি ফ্রিল্যান্সার, ফাইবার বা আপওয়ার্ক এগুলো মার্কেটপ্লেস খারাপ না। তবে নতুনদের জন্য আমার কাছে fiverr বেস্ট মনে হচ্ছে। আমি আপনাকে ফাইবার মার্কেটপ্লেস এ কাজ করার জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। কারণ এখানে আপনি যতটুকু কাজ জানেন বা পারেন সেটুকুই সার্ভিস হিসাবে সেল করতে পারবেন। কিন্তু আপনি অন্যান্য ফ্রীল্যান্স মার্কেটপ্লেসেও কাজ করতে পারেন সেটা আপনার ইচ্ছা। আপনি এই মার্কেটপ্লেসে কি কি কাজ করতে পারবেন তা জানতে এখানে ক্লিক করুন।
ফাইবার মার্কেটপ্লেসে কিভাবে অ্যাকাউন্ট খুলবেন?
ফাইবার একাউন্ট তৈরি করার নিয়ম
ফাইবার মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট খোলা খুবই সহজ। অ্যাকাউন্ট খুলতে লিংকে ক্লিক করুন Link

become a seller এ ক্লিক করুন।

become a seller এ ক্লিক করার পর নিচের মত একটি ফর্ম আসবে। যেখানে গুগল এবং ফেসবুকের সাথে যুক্ত হতে বলবে। এখানে আমার পরামর্শ হচ্ছে যেকোনো একটিভ ইমেইল দিয়ে Continue করবেন।

তারপর একটি ইউনিক ইউজার নাম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে Join এ ক্লিক করবেন।

Join এ ক্লিক করার পর নিচের মত একটি ফর্ম আসবে। এখানে আপনার Personal Info, Professional info, Linked accounts, Account Security খালি ঘরগুলি পুরন করতে হবে।

Account Security এর জায়গায় আপনার ব্যাবহারকৃত ইমেইল আর ফোন নাম্বার দিতে হবে। এখানে অবশ্যই আপনার ব্যাবহারকৃত ইমেইল আর ফোন নাম্বার দিবেন। কারণ কোন সময় যদি আপনার Account এর Problem বা বায়ারের সাথে কোনরকম ঝামেলা হয়, তাহলে এই Contact info দিয়ে Fiverr Support থেকে পরবর্তীতে আপনার সাথে যোগাযোগ করবে।

ফাইবার মার্কেটপ্লেস থেকে কিভাবে পেমেন্ট নিবেন?
ফাইবার থেকে সরাসরি বাংলাদেশের কোন ব্যাংকে টাকা পেমেন্ট নিতে পারবেন না। পেমেন্ট নিতে হলে আপনাকে পেপাল অথবা পেওনিয়ার ব্যাংকে নিতে হবে। পেপাল বাংলাদেশে সাপোর্ট করে না তাই Payoneer অ্যাকাউন্ট লাগবে। পেওনিয়ারে Withdraw বা পেমেন্ট নেওয়ার পর পেওনিয়ার থেকে বাংলাদেশের যেকোনো লোকাল ব্যাংকে নিতে হবে।
পেওনিয়ার অ্যাকাউন্ট কিভাবে খুলবেন?
নিচের লিংক থেকে পেওনিয়ার অ্যাকাউন্ট খুলে নিন। তবে এই লিংক থেকে অ্যাকাউন্ট খুললে ২৫ ডলার বোনাস পাবেন। সরাসরি পেওনিয়ার ওয়েবসাইট থেকে অ্যাকাউন্ট খুললে ২৫ ডলার পাবেন না।
লিংক
লিংক
পেওনিয়ার এর লিংকে যাওয়ার পর সাইন আপ বাটনে ক্লিক করুন এবং ফাইবার অ্যাকাউন্ট যেই নামে আছে সেই নাম এবং অ্যাড্রেস দিতে হবে।

আপনার NID অনুযায়ী First Name, Last Name, Email Address, Re-Enter Email Address and Birth Date দিতে হবে। next এ ক্লিক করুন—

অবশ্যই আপনার বর্তমান ঠিকানা দিতে হবে। কারণ পরবর্তীতে আপনার Payoneer MasterCard এই ঠিকানাই পাঠিয়ে দিবে। next এ ক্লিক করুন—

এখানে আপনার সিকিউরিটি প্রশ্ন এবং ভোটার আইডি কার্ডের নাম্বার দিতে হবে।

এখানে আপনার বাংলাদেশি যে কোন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এর ইনফর্মেশন দিতে হবে। স্টূডেন্ট অ্যাকাউন্ট, এজেন্ট ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টও গ্রহণযোগ্য। আপনি যে অ্যাকাউন্ট এ এড করেন না কেন সেটা আপনার ফাইবার অ্যাকাউন্ট যার নামে আছে তার নামেই অ্যাকাউন্ট হতে হবে। তারপর নিচে I Agree Terms ans Conditions তে চেক মার্ক দিয়ে Submit করতে হবে।

No comments:
Post a Comment